স্মৃতির পাতায় সিসিএন--- বশির আহম্মেদ
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৬:০৩ পি এম
সিসিএন-এ আমার যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। আইন পড়ার আগ্রহ থেকে আমি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করছিলাম, যেখানে কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ থাকবে—যেটা আমি সহ গ্রামের অনেক ছেলেরই প্রত্যাশা। তখন আমি জানতাম না যে আইন পড়তে ইংরেজির প্রয়োজন হয়। ঢাকা না কুমিল্লা—এই সিদ্ধান্ত নিয়েও দ্বিধায় ছিলাম। ঢাকায় থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচের কথা ভেবে সবদিক বিবেচনা করি।
ঠিক তখনই আমার হাইস্কুল—চৌয়ারা এম.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে সিসিএনের একটি ব্যানার চোখে পড়ে। দেখি চার বছরের খরচ তুলনামূলক কম, গাড়িভাড়া লাগবে না, টিউশন ফি কিস্তিতে দেওয়া যাবে। তখন বাখরাবাদ থেকে সরাসরি বাস চলত না, কান্দিরপাড়ের বাসে যাতায়াত করতে হতো। প্রথম দুই সেমিস্টারে প্রায়ই ১/২ মিনিট দেরির কারণে বাস মিস করতাম।
বর্তমান লাইব্রেরি যেখানে, সেখানে তখন ভর্তি অফিস ছিল। সেখানে হিমেল নামে একজন ভাই ছিলেন, যিনি এখন প্রয়াত। ইভেন্টের কাজে তার ভাইয়ের সাথে যুক্ত থাকার কারণে আমাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত নসিব করুন। ভর্তি সময় ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান স্যার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তখন সাংবাদিক ভাই আব্দুল আল মামুনের একটি রেফারেন্স ছিল। তবে হিমেল ভাই আমাকে খুব ভালো একটি পরামর্শ দেন। এরপর আমি আমার ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানের রেফারেন্স দেই—এরও একটি কারণ ছিল।
ভর্তি নেওয়ার আগে ব্যানারে দেওয়া ল’ ডিপার্টমেন্টের নম্বরে কল দিই। তখন বর্তমান মোস্তাফিজ স্যারের সাথে কথা হয়। আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম—ল’ শেষ করে বার কাউন্সিল দিতে পারবো কিনা। সন্তোষজনক উত্তর পেয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি।
এরপর পরীক্ষা ও ক্লাস শুরু হয় অনলাইনে। জীবনে প্রথমবার জুমের মাধ্যমে ক্লাস করি। ক্লাসমেটদের চিনতাম না। দুই দিন ক্লাস করার পর ফাহাদ জানায়, সে এই সেমিস্টার কন্টিনিউ করবে না। আমরা কয়েকজন মিলে চতুর্থ সেমিস্টার পর্যন্ত এগোই। কিন্তু আমি মানিয়ে নিতে না পেরে ড্রপ দেই। পরে মাইনউদ্দিন ভাইসহ তাদের সাথে আবার কন্টিনিউ করি। ঐ সময় যদি ড্রপ না দিতাম, তাহলে আজ হয়তো ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না তবুও বন্ধুদের সহযোগিতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। বিশেষ করে এলাকার ভাই মাইনউদ্দিন—সবসময় পাশে ছিল।
এই পথচলায় আমাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবে এই ক্যাম্পাসে কখনো কারো সাথে আমার খারাপ আচরণ হয়েছে—এমন অভিযোগ নেই। নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করি। সততার সাথে দায়িত্ব পালনের কারণে টিচার্স ও প্রশাসনের কাছে পরিচিত ও প্রিয় হয়ে উঠি। সিসিএন শিক্ষা পরিবারের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয় আমার উপর ক্যাম্পাসের দায়িত্ব অর্পণ করেন। আমি কখনো সেই দায়িত্ব অবহেলা করিনি। ভুল হোক বা অন্য কারো কারণে—বকা শুনলেও তা মেনে নিয়েছি।
স্মৃতির অংশ হিসেবে ডিপার্টমেন্ট অফিসে কয়েকটি জিনিস উপহার দেই। ২০২৪ সালের বন্যায় স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশগ্রহণ করি। এ সময় ড. মাসরুর সালেকিন স্যারের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি লাইফ জ্যাকেট উপহার দেন, যা পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগে—Safety First। সিসিএনের হয়ে কুমিল্লা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজেও অংশ নিই।
সব মিলিয়ে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হিসেবে যা যা করা সম্ভব—আমি চেষ্টা করেছি শতভাগ কাজে লাগাতে, শ্রম ও মেধা দিয়ে। ইনশাআল্লাহ, সামনের দিনগুলোতেও সিসিএনের নাম উজ্জ্বল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
আমার জীবনের সেরা অধ্যায়গুলোর একটি হলো—সিসিএন-এর শিক্ষাবর্ষ।
বশির আহম্মেদ
সাবেক সভাপতি সিসিএন-ইউএসটি ভলান্টিয়ার সার্ভিস ক্লাব, আইন বিভাগের এলামনাই।
- কুমিল্লায় দাঁড়িপাল্লায় প্রচারণায় মাঠে ডাক্তারা
- নাঙ্গলকোটে ধানের শীষের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা
- চৌদ্দগ্রামে ডাঃ শফিকুর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াতের মিছিল
- চৌদ্দগ্রামে টপ সয়েল কাটায় ৫ ইটভাটার ২৫ লাখ টাকা জরিমানা
- চৌদ্দগ্রামে টপ সয়েল কাটায় ৫ ইটভাটার ২৫ লাখ টাকা জরিমানা
- কুমিল্লায় আমীরে জামায়াত আগামন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল
- কুমিল্লা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন
- চৌদ্দগ্রামের শুভপুরে ছাত্রশিবিরের ছাত্র প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা
- জামায়াতের পলিসি সাম্মিটের কিনোট স্পিকার কে এই ড. আশিকুর রহমান?