কুমিল্লার ১১ আসনের তিনটিতে জয়ের বন্দরে নৌকা।।৮টিতে চোখ রাঙাচ্ছে স্বতন্ত্র
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশ: ৭ জানুয়ারী, ২০২৪ ০০:৫২ এএম
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লায়ও সরগরম প্রচারণায় ব্যস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ভোটে অংশগ্রহণ না করলেও নৌকার বিপক্ষে ভোটে রয়েছেন হেভিয়েট স্বতন্ত্ররা। জয়ের মালা পরতে কোনো কোনো জায়গায় রক্তক্ষয়ী সহিংসতায়ও জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।তবে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাষে জেলার ১১টি আসনের ৮টিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে।আর বাকি তিনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রতিপক্ষ তেমন শক্তিশালী নয়।তাই সেখানে জয়ের বন্দরে নৌকা।আজ ৭ জানুয়ারি শুধু তীরে ভেড়ার অপেক্ষা।এ তিনটি আসন হলো কুমিল্লা-৮ (বরুড়া), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) ও কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-লালমাই-নাঙ্গলকোট)।অবশ্য অন্য আসনগুলোতে নৌকার বিপক্ষে চোখ রাঙাচ্ছেন আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।এসব আসনে কোনটিতে দ্বিমুখী এবং কোনোটিতে তৃতীয় ও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস): নৌকায় ছোবল দিতে পারে ঈগল এ আসনটিতে তিনবারের এমপি জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো নৌকার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর ভূঁইয়া।দলের কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ায় এলাকায় তার একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।যার প্রতিফলন দেখা গেছে গত ইউপি নির্বাচনে।ভোটে অধিকাংশ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সবুর বলয়ের।তবে এবারের ভোটে কিছুটা চ্যালেঞ্জে পড়েছেন দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে।সেখানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার নাঈম হাসান।তরুণ প্রার্থী হওয়ায় ও বাবা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা হাসান জামিল সাত্তারের ক্লিন ইমেজের কারণে তার একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।আর সম্প্রতি বর্তমান এমপি সুবিদ আলীর ভূঁইয়ার ছেলে ও দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন এবং তিতাস উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারও তার পক্ষে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন।অবশ্য বিএনপির এ ঘাঁটিতে তাদের সমর্থরা কোনদিকে যাবে এটিও দেখার বিষয়।কারণ এতোদিন নৌকার বিপক্ষ শক্তি হিসেবে নাঈম বিএনপি-জামায়াতের কিছুটা সহানুভূতি পেয়েছেন।কিন্তু সম্প্রতি এমপি সুবিদ আলী ভূঁইয়া সমর্থকরা ঈগলে সওয়ার হওয়ায় বিএনপির একটি বড় অংশ তা মানতে পারছেন না।তাই বিএনপির ভোট বাগে আনতে কৌশল অবলম্বন করতে পারলে নৌকায় ছোবল দিতে পারে ঈগল।আসনটিতে সবুর ও নাঈম ছাড়াও জাতীয় পার্টির আমীর হোসেন ভূঁইয়াসহ রয়েছেন ৮ প্রার্থী। কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা): লড়াই হবে ত্রিমুখী এক সময়ের বিএনপির এ ঘাঁটিতে এবারও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন নিটোল গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন ও ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তাকে মোকাবেলা করতে হবে শক্তিশালী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে।তারা হলেন ট্রাক প্রতীকের হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পপি লাইব্রেরির সত্বাধিকারী অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ এবং ঈগল প্রতীকের মেঘনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম।দুই উপজেলার বেশিরভাগ ভোটার মনে করেন আসনটিতে লড়াই হবে ত্রিমুখী।কারণ বর্তমান এমপি হওয়ায় নৌকার প্রকৃত সমর্থকরা আবারও মেরীকেই বেছে নিতে পারেন।আর প্রবীণ নেতা হিসেবে এবং বিএনপি নেতা প্রয়াত এমকে আনোয়ারের সমর্থকদের বাগে আনতে পারলে অধ্যক্ষ মজিদের ট্রাকের সাইরেনও উচ্চকিত হতে পারে।অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সুনাম রয়েছে শফিকুল ইসলামের।কারণ মেঘনার মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো আন্দোলনে তার প্রশংসিত ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে।নিজ উপজেলার একচেটিয়া ভোট ও হোমনা থেকে কিছু বাগে আনতে পারলে তিনিও জয়ের মালা পড়তে পারেন।আসনটিতে মোট প্রার্থী ১০ জন। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর): নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারেন কায়কোবাদ সমর্থকরা ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এটি কুমিল্লার সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা।১৯৭৩’র পর ২০১৪ সালের আগে আসনটিতে কখনও জয়ের মুখ দেখেনি আওয়ামী লীগ।বিএনপিবিহীন নির্বাচনে সেবার প্রথমবারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন।১৮’র নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন।এবারও তিনি নৌকার প্রার্থী।তবে এলাকায় রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার।তার প্রচারণাতে ভোটারদের উপস্থিতিও বেশ লক্ষণীয়।অন্যদিকে এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন দাবি করে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নৌকার ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন।তবে আসনটিতে পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি বিএনপির নেতা কায়কোবাদের বিপুল সংখ্যক নিরব ভোটার রয়েছে।নৌকার ভোট ভাগাভাগি হবে দুই প্রার্থীর মধ্যে।এক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে কায়কোবাদ সমর্থকদের ভোট।তাদের সমর্থন কোনদিকে যায় সেটিও বিবেচ্য বিষয়।আসনটিতে মোট ১১ প্রার্থী থাকলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা-ঈগলে। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার): সরকারবিরোধী ভোটে চোখ কালামের আসনটিতে নৌকার প্রার্থী ২০১৪ ও ১৮ সালে নির্বাচিত এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।তিনি প্রয়াত সাবেক উপমন্ত্রী এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে।এলাকায় তার নিবেদিতপ্রাণ অসংখ্য নেতাকর্মী রয়েছেন।টানা দুই মেয়াদে এমপি থাকায় উন্নয়নও করেছেন ব্যাপক।তবে এবার তার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইস্তফা দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে।গত কয়েক বছরে তিনিও এলাকায় একটি নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন।১৫টি ইউপি চেয়ারম্যানের ১২ জনই তার পক্ষে।তবে দেবীদ্বার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রাজী-কালাম গ্রুপ দু’টোই শক্তিশালী।উভয়ের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী লালনের অভিযোগ রয়েছে।এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থানও বেশ শক্ত।ব্যক্তিগত ইমেজের কিছু ভোট রয়েছে প্রয়াত ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী এ বি এম গোলাম মোস্তফার।নৌকা ঠেকাতে বিগত উপজেলা নির্বাচনের ন্যায় এবার তাদের সমর্থকদের আনুকূল্য পেতে পারেন আবুল কালাম আজাদ।এমনটিই বলছেন এলাকার লোকজন।আসনটিতে মোট প্রার্থী ১২ জন।কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বিপরীতে সুবিধায় শওকত মাহমুদ ভারত সীমান্তবর্তী এ আসনটিতে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম।সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।আসনটিতে বরাবরই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগ।যার প্রমাণ প্রতি নির্বাচনেই দলটির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিপুল সংখ্যক নেতা।এবারও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন প্রায় অর্ধশত মনোনয়নপ্রত্যাশী।অবশ্য ১৭ ডিসেম্বর শেষ দিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন অনেকেই।এরপরও নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলটির ৩ নেতা।এর মধ্যে কেটলি প্রতীকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ জাহের, ফুলকপি প্রতীকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন স্বপন এবং ট্রাক প্রতীকে লড়ছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া রুমি।এই তিনজনই নৌকার সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা গড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ।তিনি বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।ইনসাফ কায়েম কমিটির আড়ালে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে দলটি থেকে বহিষ্কার হন।তবে বিএনপি ভোটে না থাকলেও তিনি স্বতন্ত্র হয়ে ঈগল প্রতীকে লড়ছেন।তার দাবি দল থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী।আওয়ামী লীগের ভোট ভাগাভাগি হতে পারে বিধায় বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্যদের ভোট তার পক্ষে আসবে। তাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে তার দাবি।আসনটিতে মোট প্রার্থী ৯ জন। কুমিল্লা-৬ (সদর): চমক দেখাতে পারেন সীমা এ আসনটিতে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় এলাকায় চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন করেছেন।আওয়ামী লীগের মহানগর নেতৃত্বে মেয়ে সূচনাসহ নিজের লোকদের আধিপত্য।তারপরও গত কয়েক বছর বিতর্ক যেন তার পিছু ছাড়ছে না। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপুজায় মদপান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য,হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কর্মসূচিতে হামলা, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঠ্যাং ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি এবং সর্বশেষ তার সামনেই দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় শোকজ পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ইমেজ সংকটে পড়েছেন।তারপরও জয়ের লক্ষ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।অপরদিকে স্বতন্ত্র হয়ে ঈগল প্রতীকে লড়ছেন তার চির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রয়াত অধ্যক্ষ আফজাল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা।আলোচনা রয়েছে নৌকা ঠেকাতে তার পিতার অনুসারীদের পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এবং জামায়াত সমর্থকরা তার পক্ষে কাজ করছেন।এমনটি হলে চমক দেখাতে পারেন সীমা।আর বাহার সমর্থকদের দাবি উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকেই বেছে নেবে সাধারণ মানুষ। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা)।।নৌকা-ঈগল হাড্ডাহাডিড নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি ডা. প্রান গোপাল দত্ত এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটু সমর্থকদের সংহিসতার কারণে বারবার সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে এ আসনটি।সর্বশেষ ২৫ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক জখম হন টিটু সমর্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মুন্সীসহ কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী।এ ঘটনায় সেদিন রাতেই ফেসবুক লাইভে প্রাণ গোপাল দত্তকে দায়ী করেন টিটু।অবশ্য পরদিন ২৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন নৌকার প্রার্থী।আসনটিতে বিএনপি ও এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের রিজার্ভ ভোট রয়েছে।টিটু চাচ্ছেন সেসব ভোট নিজের পক্ষে নিতে।অবশ্য টিটুর ব্যাপারেও বিএনপির একটি অংশের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।বিশেষ করে তার বাবা প্রয়াত অধ্যাপক আলী আশরাফ ক্ষমতায় থাকতে ইউপি নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও আলোচিত হচ্ছে।তাই সরকারবিরোধী ভোট ঈগলকে উড়ায় না নৌকার পালে হাওয়া দেয় সেটিই দেখার বিষয়।তবে এখানে এই দুই প্রতীকের হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।আসনটিতে লাঙ্গল প্রতীকের লুৎফুর রেজা খোকনসহ মোট প্রার্থী ৭ জন। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া): সুবিধাজনক অবস্থানে নৌকার শামীম কুমিল্লার অন্যান্য আসনগুলোতে নৌকার বিপক্ষে নিজেদের দলীয় শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ব্যতিক্রম এ আসনটিতে।কারণ এখানে নৌকা প্রতীকের নতুন প্রার্থী এসকিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন শামীম।প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েই আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে এক ছাতার নিচে আনতে সক্ষম হয়েছেন।ইতোমধ্যে বর্তমান এমপি এম নাছিমুল আলম নজরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও নৌকার সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।এতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন শামীম।শেষ মুহূর্তে ৬ জানুয়ারি মাঠ ছেড়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন।তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হয়ে লড়ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিলো তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারতেন। তিনি সড়ে যাওয়ায় নৌকার শামীমের জয় আরও সহজ হলো। জাতীয় পার্টির ইরফানসহ আসনটিতে মোট প্রার্থী ১০ জন। কুমিল্লা-৯(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): মন্ত্রী তাজুলের জয় শুধু সময়ের ব্যাপার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী থাকায় এ আসনটিতে চোখ ধাঁধাঁনো উন্নয়ন করেছেন নৌকার প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম।তাই অন্যান্য আসনের মতো দলীয় শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই এখানে।এ জন্য কিছুটা নির্ভার তিনি।আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধারণা নৌকার বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফাসহ মোট প্রার্থী ৬ জন।এদের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার মতো নন বলে জানা গেছে। কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-লালমাই-নাঙ্গলকোট): শক্ত প্রতিপক্ষ নেই অর্থমন্ত্রীর শক্ত প্রতিপক্ষ না থাকায় এখানেও চিন্তামুক্ত নৌকার প্রার্থী ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল।এ কারণে আসনটিতে নেই তেমন উত্তাপ।জাতীয় পার্টির জোনাকি হুমায়ূনসহ মোট ৬ প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো শক্তি কারও নেই বলে দাবি স্থানীয়দের।তাই অর্থমন্ত্রীর জয় অবশ্যম্ভাবী। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম): চ্যালেঞ্জে নৌকার মুজিব রাজনৈতিকভাবে কুমিল্লার ১১টি আসনের ১০টিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি হলেও এ আসনটির চিত্র ভিন্ন।কারণ এখানে সব সময় আওয়ামী লীগকে জিততে হয় জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে।২০০১ সালে জামায়াতের ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের কাছে হারলেও আসনটিতে বেশিরভাগ সময় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।দলের বেশিরভাগ নেতা তার তৈরি হওয়ায় এতো দিন তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনো নেতা ছিলেন না।এই প্রথম তারই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রহমান নৌকার বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন।জীবনের পড়ন্ত বেলায় শিষ্যের কাছে পরাজয় হয় কীনা এ বিষয়টিও তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।আলোচনা রয়েছে নৌকা ঠোকাতে জামায়াত নেতাকর্মীদের সাখে আঁতাত করেছেন ফুলকপির মিজান।একই অভিযোগ নৌকা সমর্থকদের বিরুদ্ধেও। তবে দুই পক্ষের নজর জামায়াতের ভোটের দিকে। ক্যারিশমেটিক গুনে শেষ পর্যন্ত উৎরে যেতে পারে গুরুর নৌকা।এমনটিই ধারণা মুজিব সমর্থকদের।আসনটিতে জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফাসহ মোট প্রার্থী ৭ জন।
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে রেড ক্রিসেন্টের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে রেড ক্রিসেন্টের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু
- রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না--- ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
- চৌদ্দগ্রামে অর্থবহ রমজান গড়তে আজাদী সংসদের আলোচনা সভা
- চৌদ্দগ্রামে অর্থবহ রমজান গড়তে আজাদী সংসদের আলোচনা সভা
- কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে পুত্রবধূ নাঈমা খন্দকারের গণসংযোগে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া
- কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে পুত্রবধূ নাঈমা খন্দকারের গণসংযোগে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া
- কুমিল্লায় বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত
- স্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন কুমিল্লার সাবেক মেয়র সাক্কু
- গুজব কে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বিএনপি- বিএনপি মিডিয়াসেলের প্রধান