বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,

শিরোনাম :
  • আজ বাইউস্ট ডিবেট ক্লাব কর্তৃক ডিবেট ওয়ার্কশপ ও বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন জুলাইকে মুছে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে'--- এড. তারিকুল  ৮৭৫ গ্রাম হিরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী মেহরাব আলম অপিসহ আটক ৬জন। ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে ষোলআনা বাঙালি চেতনায় বাংলা বর্ষবরণ কুমিল্লায় এনসিপি'র মেয়র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন ভিক্টোরিয়া কলেজে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে টানা ৭ ঘণ্টা পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছিনতাইকারী খপ্পরে ভিক্টোরিয়ার শিক্ষার্থী, যেভাবে বেঁচে ফিরলেন! মন্ত্রীর পর এবার সিহাবের স্বপ্ন তারেক রহমানকে দেখার দাউদকান্দিতে রিকশা চালকের মেয়েকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি অধ্যক্ষ ' তোমার বোনকে ফ্রি পড়াতে ঠেকছে কেউ?' কুমিল্লা প্রতিনিধি কলেজের বেতন পরিশোধ করতে না পারায় রিকশা চালকের মেয়েকে নির্বাচ আড্ডা, খেলা আর হাসিতে জমে ওঠে ক্যাম্পাসের খোলা মাঠ
  • স্থায়ীকরণের আশ্বাসে ৬০ টাকায় চাকরি ২৫ বছর পরও শুনছেন তারা কেউ নয়

    স্থায়ীকরণের আশ্বাসে ৬০ টাকায় চাকরি ২৫ বছর পরও শুনছেন তারা কেউ নয়
    ছবি/কুমিল্লা মেইল

    নিজস্ব প্রতিবেদক।। চাকরি স্থায়ী হবে। এমন আশ্বাসে ৬০ টাকা বেতনে ঢুকেছেন চাকুরিতে। ২৫ বছর কেটেছে। এখনও শুনছেন তিনি কারো নয়। চাকরি স্থায়ী করণের এক দফা দাবি বাস্তবায়নের অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চাপাপুর এলাকায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের ফটকে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করে। এটি তাদের চলমান আন্দোলনের অংশ।সরেজমিনে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি গিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৩ সাল থেকে স্থায়ী নিয়োগ শেষ হয়। কিন্তু ঠিকা ভিত্তিক লোকবল নিয়োগ করা হতো প্রতি বছর। সেই সময় থেকে অনেকে কাজ করেন। অনেকে কর্মস্থলে মারাও গেছেন। কিন্তু কোন সমস্যার সমাধান হয়নি।বিজিডিসিএল কর্মচারীরা জানান, বিজিডিসিএলে ৩০৩জন ঠিকাভিত্তিক কর্মচারী কাজ করেন। দীর্ঘদিন স্থায়ী করণের আশায় তারা কম পারিশ্রমিকে কাজ করে আসছে। অনেকে ওভারটাইম কাজ করছে কিন্তু ন্যায্য কোন ভাতা বা বেতন পাচ্ছিলনা। উল্টো ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা যখন যাকে ইচ্ছে হতো চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিত। যেকারণে কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তো।অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে কথা হয় কর্মচারী মো. জসিম উদ্দিন (৪৮) এর সাথে। তিনি জানান, ১৮ বছর বিজিডিসিএলএ কাজ করি। দিন নাই রাত নাই। যখন সার্ভিস দরকার বলে আর আমরা কাজ করি। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য আমার কোন মূল্যায়ন বিজিডিসিএল করেনি।তিনি বলেন, ১৮০ টাকা দৈনিক হাজিরায় ঢুকেছিলাম কাজে। এখন ১৭ হাজার টাকা বেতন পাই। তাও কত কাহিনী করে। এই টাকায় ছেলে মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি। আশা একটাই, আমাদের স্থায়ী করবে। কিন্তু স্থায়ী করণের বদলে আজও হুমকি দিয়ে দিয়ে গেল আমাদের দেখে নিবে বলে।২০ বছর আগে ৬০ টাকায় চুরিতে ঢোকা মো. রোমান বলেন, এই মাস পর্যন্ত আমার বেতন ১৬ হাজার ১২০ টাকা। ছোটবেলা থেকে এখানে কাজ করি। ৬০ টাকা বেতনে ঢোকার পর কোন উপায় পাচ্ছিলাম সনা। কখন সবাই বলেছিল স্থায়ী হবে। কর্মকর্তারাও লোভ দেখিয়েছে। কিন্তু এখন কর্মকর্তারা বলে আমরা কে? আমাদের নাকি চেনে না। চেনে নাকি ঠিকাদারকে। এগুলো কোন কথা বলেন? আমরা যাবো কোথায়?এদিকে চাকুরি স্থায়ী করণের দাবি তুলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের নির্যাতনের বিচার চেয়ে বিজিডিসিএল এর মেডিক্যাল বিভাগের কর্মচারী নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা যাবো কোথায় বলেন তো? পুলিশ আমাদের অধিকারের আন্দোলনে হামলা করেছে। সেখানে পুলিশ নারী সহকর্মীদের ওপর নির্বিচারে হামলা করেছে। তারা কোন নারী পুলিশও আনেনি। জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলিও করেছে। বলুনতো এটা কি ঠিক হয়েছে?তিনি বলেন, আমরা কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করি সেটা উনারাও জানেন। আমাদের কাজটাকি উনারা করতে পারবেন? আমাদের বেতন দেয় সর্বোচ্চ ১৭ হাজার। আর এটা কর্মকর্তাদের জুতা শেলাই করার টাকা। আর কর্মকর্তারা কানাডা ইউরোপ ঘুরেন। এখানে যারা কাজ করে তারা একটা আশা নিয়ে কাজ করেছিল। তাদের আশ^াস না দিলে তারা আজ বিদেশে গিয়ে লাখ লাখ টাকা দেশে পাঠাতো। এখন তাদের জীবনটা শেষ করে আপনারা বলেন তাদের চিনেন না। আপনারা বলেন স্থায়ী হবেনা। আমরা স্পষ্ট বলবো আমরা অধিকার না ফিরে পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবো। তার জন্য বুকের রক্ত দিতে হলে তাই করবো।২০১৮ সালে চাকুরিতে যুক্ত হওয়া এরশাদ হোসেন বলেন, আমি গাড়ি চালাই। আমার ১০ থেকে ১৫ বছর আগে চাকুরি পাওয়াও অনেকে আছে এখানে। এখানে কর্মরত অবস্থায় আমার ভাই দাউদকান্দিতে ডিউটি করার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তার পরিবারকে কিছুই দেয়নি বিজিডিসিএল। কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু নাম করার জন্য আউটসোর্সিংয়ে তার পরিবারের একজনকে চাকুরি দেয়। এটাও যায় যায় অবস্থা।তিনি বলেন, আমাদের কোন উৎসব ভাতা বা দুই ঈদের কোন বোনাস নাই। পূর্বের এমডি সংকর মজুমদার বিভিন্ন অযুহাতে আমাদের সহকর্মীদের চাকুরি থেকে বাদ দিয়ে দিছেন। এখনও হুমকি ধামকি চলছে। তারা বলে আমাদেরকে তারা চিনে না। আমরা নাকি জেনারেশন ফোরের লোক, জেনারেশন ফোরের সাথে কথা বলতাম। ২০২০ সাল থেকে আমরা এই আন্দোলন শুরু করেছি। শেখ হাসিনার এমপি মন্ত্রীরা একাধিক সময়ে আমাদের লোভ দেখিয়েছিল। আমাদের লোভ দেখিয়েছিল তিন মাস পর আমাদের চাকুরি স্থায়ী হয়ে যাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমাদের কোন আশ^াসও দেয়নি। অথচ তখন ৩-৪ লাখ টাকা নিয়ে আমাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বিশাল বাণিজ্য করেছিল।বিজিডিসিএল এর মহাব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান পাটোয়ারি বলেন, কয়েকটি উশৃঙ্খল ছেলে ফেলে এসব করছে। তারা কাজও করছে না অন্যদের কাজ করতেও দিচ্ছে না। তারা কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছে। আমরা বলবো কাকে সরকার স্থায়ী করবে কাকে করবে না তা সরকার দেখবে। আন্দোলন চলাকালীন আমাদের গাড়ি ঢুকতে ও বের হতে দিচ্ছনা। আমরা বলেছি সরকারি সিদ্ধান্ত আসলে আমাদেরতো কোন অসুবিধা নেই। তারা ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। আমরা ঠিকাদারকেও জানিয়েছি তার লোকজন এই সমস্যা করছে। তারা বলছে দেখবে। আমরা কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছি তাদের যেন বুঝিয়ে শুনিয়ে বলেন। আন্দোলনকারীদেরও বলেছি তারা যেন কারও উপর চড়াও না হয় বা কোন ফৌজদারি অপরাধে না জড়ায়। আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছুই করতে পারি না।


    add