রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, , ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪৫

বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ মেহেরপুরের চাষিরা

বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ মেহেরপুরের চাষিরা
বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ

মেহেরপুরের গাংনীতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ঘরে ঘরে ধান তোলার আনন্দ। তবে ধানের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে সোনালি ধান। দলে দলে ধান কাটছেন চাষিরা। গান গাইছেন আর পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন তারা। কেউ কেউ আঁটি বাঁধা ধান মাথায় করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন অথবা গাড়িতে তুলছেন। আবার অনেকে জমিতেই ধান মাড়াই করছেন।
উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের ধানচাষি আবদুল মান্নান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার আতঙ্কে ছিলাম। না জানি ধানের কতই না ক্ষতি হয়। তবে সে আশঙ্কা কেটে গেছে। কোনো ক্ষতি হয়নি ধানের। এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বড় বড় শীষে অনেক ধান। বিঘা প্রতি ২৪-২৫ মণ করে ফলন হচ্ছে এবার।
গাংনীর চিৎলা গ্রামের ধানচাষি আনার হোসেন বলেন, ঝড় নিয়ে ভয় ছিল। তা আর নেই। সব ধান ঘরে তোলা হয়েছে। আমার দুই বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ মণ ধান ফলেছে। বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৯৬০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। তবে দাম আরো কিছুটা বেশি হওয়া উচিত।
বাহাগুন্দা গ্রামের ধানচাষি রফিজুল ইসলাম বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ধান আবাদে খরচ বেশি পড়েছে। সার, ডিজেল, জমি চাষসহ সব কিছুর দামই বেড়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে এবার ২০ হাজার টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। খরচ অনুপাতে তেমন লাভ পাচ্ছেন না কৃষকরা। গাংনী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ২৫২ হেক্টর জমিতে। ধানের ফলনও এবার ভালো হয়েছে। উপযুক্ত দাম পেলে কৃষকদের মুখের হাসি অটুট থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, এ উপজেলায় এবার বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। চাষিরা ধান কাটছেন। মোখায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ধানের দাম আরো কিছুটা বাড়তে পারে। কৃষকরা নিশ্চয়ই লাভবান হবেন।