শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,

শিরোনাম :
  • কুমিল্লায় বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত স্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন কুমিল্লার সাবেক মেয়র সাক্কু গুজব কে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বিএনপি- বিএনপি মিডিয়াসেলের প্রধান গুজব কে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বিএনপি- বিএনপি মিডিয়াসেলের প্রধান ভুক্তভোগীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ ভয়হীন বাংলাদেশের খোঁজে ভয়হীন বাংলাদেশের খোঁজে গুপ্ত দলের লোকেরা জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে : তারেক রহমান
  • জকসুতেও ছাত্রদলের ভরাডুবি, কীভাবে হজম করবেন তারেক রহমান?

    জকসুতেও ছাত্রদলের ভরাডুবি, কীভাবে হজম করবেন তারেক রহমান?
    ছবি সংগ্রহীত

    রাজনৈতিক কলাম।। 

    শেষ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় পেলো জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। ভিপি, জিএস ও এজিএস-সহ বেশিরভাগ পদেই তাক লাগানো ফল পেয়েছে তারা।
    তিনটি সমীকরণে ধারণা করা হচ্ছিলো গেলো ৪টি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ডাকসু, চাকসু, জাকসু ও রাকসুতে ভরাডুবি থেকে জকসুতে জয়ী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে ছাত্রদল।
    এর মধ্যে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন, তাই ছাত্রদল উজ্জীবিত, আর অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজার কারণে এক ধরনের সহানুভূতি ও পুরাণ ঢাকার ওই এলাকাটি বিএনপির ঘাঁটি সব মিলিয়ে ছাত্রদল ভালো করার কথা ছিলো।
     কিন্তু এবারও তারা হতাশ করেছে। জানি না দেশে আসার পর নিজ দলের ছাত্র সংগঠনটির এমন পরাজয়কে তারেক রহমান কীভাবে হজম করবেন। তবে আমি মনে করি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এটি বিএনপির জন্য একটি অশনিসংকেত।

    অনেকেই বলছেন ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। তাই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আওয়ামী লীগের পর বিএনপি বড় দল এটা অস্বীকার করার কোনও জো নেই। 
    তবে অতীতের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছে, তার পরবর্তী নির্বাচনে সেই সংগঠন সমর্থিত দল কিন্তু ভালো করেছে। যেমন ৯০ এর নির্বাচনে ডাকসুতে ভিপি হয়েছিলেন ছাত্রদল প্যানেলের আমান উল্লাহ আমান ও জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন একই প্যানেলের খায়রুল কবির খোকন।
     পরবর্তীতে ৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছিলো বিএনপি। ঠিক প্রতিযোগিতামূলক ২০০১ সালে বিএনপিসহ চার দলীয় জোট ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ের নেপথ্যে তারুণ্যের গণজোয়ার ছিলো।
     তাই একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ছাত্রদলের হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডের কপালে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাজ ফেলতে পারে বলে আমার ধারণা।
     কারণ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীরা যদি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারা বা অন্য তরুণরা যে নতুন কিছু ঘটাতে পারবে না সেটাও উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
    তাই আগামীতে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা বিএনপির হাইকমান্ডকে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বিশেষ করে ছাত্র দলের নেতৃত্বকে ঢেলে সাজানো জরুরি।

     কারণ বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বছরের পর বছর সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। অনেকের নেই ছাত্রত্ব। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই তিন জনের বাপ। একেক নেতার বয়স ৩৮-৪০। এক জনে ৫-১০ বছর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ আঁকড়ে আছেন। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। তাই তরুণ-তরুণীরা ছাত্রদল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। 
    অথচ এর বিপরীতে শিবির প্রতি বছরই নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনছে। দেখা গেলো ছাত্রদলের এক সভাপতি ৫ বছর এক জায়গায়।
     আর শিবিরের এরই মধ্যে ৫ জন সভাপতি বিদায় নিয়ে হয় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে, না হয় লেখা পড়া শেষ করে সংসার ও কর্মজীবন শুরু করছেন। 
    এ বিষয়গুলো কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা দারুণভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কোনও আদু ভাইকে ছাত্রনেতা হিসেবে দেখতে চান না তারা। এটা বারবার প্রমাণিত। তাই ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে তারেক রহমানকেই উদ্যোগ নিতে হবে। না হয় এর খেসারত আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও দিতে হতে পারে বিএনপিকে।

    মহসীন কবির
    লেখক ও সাংবাদিক 


    add