রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, , ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪৫

চলে গেলেন জাতীয় পতাকার নকশাকার শিবনারায়ন দাস

চলে গেলেন জাতীয় পতাকার নকশাকার শিবনারায়ন দাস
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার শিবনারায়ণ দাস (৭৮) আর নেই।শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা গেছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে অর্ণব আদিত্য দাস।

শিবনারায়ণ দাসের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁর বাবা আয়ুর্বেদী চিকিৎসক সতীশচন্দ্র দাশ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে।মৃত্যুকালে শিবনারায়ণ দাশ স্ত্রীর গীতশ্রী চৌধুরী এবং এক সন্তান অর্ণব আদিত্য দাসকে রেখে গেছেন।কুমিল্লায় গ্রামরে বাড়ি হলেও পরিবারকে নিয়ে বসবাস করতেন ঢাকার মনিপুরে। অবশ্য মাঝে ২০১৩-১৪ সালে কুমিল্লায় গণশক্তি নামে নামে একটি দৈনিক পত্রিকা সম্পাদনা করার কারণে সে সময় জেলা সদরেই থাকতেন।

জাতীয় পতাকার নকশা ও শিবনারায়ন

ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কাছে রাজনীতির হাতেখড়ি নেন শিবনরায়ন দাস।ছিলেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন অংশগ্রহণ করে কারাবরণও করেন।১৯৭০ সালের ৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশগ্রহণের কথা ছিলো। সে লক্ষ্যে ছাত্রদের নিয়ে একটি জয়বাংলা বাহিনী, মতান্তরে ‘ফেব্রুয়ারি ১৫ বাহিনী’ গঠন করা হয়। এর আগের দিন ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১০৮ নং কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ন দাশ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন।

সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে সবার আলোচনার শেষে  লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খঁচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান (খসরু) তখন ঢাকা নিউ মার্কেটের এক বিহারী দর্জির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনলেন; এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়েদে আজম হল (বর্তমানে তিতুমীর হল)-এর ৩১২ নং কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র।তখন মানচিত্রটি আঁকলেন লাল বৃত্তের মাঝে আকলেন শিবনারায়ন দাস। এভাবেই রচিত হলো ‘ফেব্রুয়ারি ১৫ বাহিনী’র পতাকা, যা কিছুদিন পর স্বীকৃত হয় বাংলাদেশের প্রথম পতাকা হিসেবে।

১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার শিবনারায়ণ দাশের নকশাকৃত পতাকার মাঝে মানচিত্রটি বাদ দিয়ে পতাকার মাপ, রঙ, ও তার ব্যাখ্যা সংবলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলে পটূয়া কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসান দ্বারা পরিমার্জিত রূপটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।