কী করবে বিএনপি
- ডেস্ক রিপোর্টার
- প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৪ ২০:১৪ পি এম
ডেস্ক রিপোর্টার।।দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে নানা সমীকরণ ছিলো। কারণ বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো এক ধরনের হার্ডলাইনে ছিলো। দেশ-বিদেশে নানা চাপে ছিলো সরকার। কিন্তু যেভাবেই হোক একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে ইসি। অনেক দিন ধরেই মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন, হরতাল, অবরোধ করে একটা আবহ তৈরি করেছলো আন্দোলনরত দলগুলো। তারা ভেবেছিলো দাবি আদায়ের পক্ষে হয়তো এসব সহায়ক হবে। এর বাইরে ছিল পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যদের চাপ। তারা বাংলাদেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব সময়ই সরব ছিল।
ক্ষমতাসীনেরা দেশের নাগরিকদের চাপ উপেক্ষা করলেও অনেক সময় বিদেশিদের চাপ উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ, নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কৌশলগত কারণে তাদেরকে বিদেশিদের সঙ্গে সমীকরণে আসতে হয়। দেখা গেল, সব চাপ উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীনেরা নির্বাচনটা করিয়ে নিল।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আগে থেকেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। এই বর্জন এক অর্থে সফল, কারণ অনেক ভোটার ভোট দিতে যাননি। বিশেষ করে বিএনপির সমর্থক গোষ্ঠী যাঁরা, অথবা আওয়ামী লীগ বিরোধী গোষ্ঠী যাঁরা, তাঁরা ভোট দিতে যাননি। ভোটে টার্নআউট ছিল খুবই কম। অনেকের ধারণা ছিল, ২০ শতাংশ পর্যন্ত টার্নআউট হতে পারে। কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত ৪১ শতাংশ পেরিয়ে গেল। এটা খুব বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না।
আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ভোটারের অংশগ্রহণ যা–ই হোক, তাতে নির্বাচন বৈধতার সংকটে পড়ে না। সুতরাং এই নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে বৈধ। তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে যারা এসেছে, তারা সরকার গঠন করেছে। হয়তো এই সরকার আগের মতোই পাঁচ বছর টিকে থাকবে।
এই অবস্থায় বিএনপি রাজনীতিতে ব্রাত্য হয়ে গেল কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। বিএনপি যে কৌশল নিয়েছিল ২০১৪ সালে, একই কৌশল তারা নিয়েছে ২০২৪ সালেও। ২০১৪ সালের কৌশলে তারা মার খেয়েছিল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পরও সরকার টিকে গিয়েছিল। ২০২৪ সালে, তাদের একই কৌশল আবার অন্যভাবে মার খেল।
ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে টিকে থাকতে হলে, অবশ্যই তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের রাজনীতিতে তরুণেরা যেকোনো আন্দোলনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তরুণদের মধ্যে, বিশেষ করে ছাত্রদের মধ্য বিএনপি সেভাবে ঢুকতে পারছে না। বিএনপির নেতৃত্বকে এই বিষয়টি বুঝতে হবে।
পরপর তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কৌশল ছিল বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা। ২০১৮ সালে বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের আলোচনা হয়েছিল, সংলাপ হয়েছিল। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভেতরে-ভেতরে কী কথা হয়, বাইরে থেকে তার সবটা আমরা জানি না। তারাও সবটা বলে না।
অনেকের ধারণা ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে, নেপথ্যে আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির একটা সমঝোতা হয়েছিলো। বিএনপির ধারণা ছিল, সংসদে একটা সম্মানজনক সংখ্যক আসন তারা পাবে। সেটি হয়নি। তাদের হাতে ছয়টি আসন ধরিয়ে দেয়া হয়। এটা বিএনপির জন্য ছিলো চরম অপমানজনক।
সুতরাং, সংলাপ করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার যদি ২০১৮-এর মতো হয়, সেই ভীতি এবার বিএনপির মধ্যে ছিলো। এবার নির্বাচনে না যাওয়ার পেছনে বিএনপির যৌক্তিক কারণ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপির অর্জনটা কী হলো? তাই বিএনপির আগামীর কর্মকৌশল কী হতে পারে? এ নিয়ে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে রাজনৈতিক মহলে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভিন্ন কৌশল নেয়। দলের প্রার্থীদের বলা হলো, নির্বাচনে দাঁড়াও। ডামি প্রার্থীরা দাঁড়াল। কিছুটা উত্তেজনা, বিভিন্ন জায়গায় সামান্য সহিংসতা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
আওয়ামী লীগ পরপর তিন নির্বাচনে তিন ধরনের কৌশল নিলেও বিএনপি তার রাজনৈতিক কৌশল পাল্টায়নি। তারা সেই আগের মিছিল, সমাবেশ, হরতাল, অবরোধ, বিবৃতির মধ্যেই আছে। এ দিয়ে তো সরকার পরিবর্তন হয় না। আমাদের মতো দেশে সরকার পরিবর্তনে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, বৈধ ও সাংবিধানিক পথ হচ্ছে নির্বাচন।
কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এখানে কারচুপি হয়। এটা আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রতিটি নির্বাচনে সেই কারচুপি হয়েছে। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেখানে কারচুপি ততটা না হলেও, যারা সরকারে ছিল, তারা কারচুপি করার চেষ্টা করেছে। ছক সাজিয়েছে এমনভাবে, যাতে তাদের লোকেরাই নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে। যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক সময় সেই সাজানো ছক বদলে দিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকার পরিবর্তন নির্বাচনের মাধ্যমেই হয়েছে এবং কোনো দল পরপর দুবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এটা নাগরিকদের জন্য একটা বড় পাওয়া ছিল। নাগরিকেরা তাদের ভোটের শক্তি দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে পারত।
এখন নাগরিকেরা সেই শক্তিটা হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিটা অনেকটাই একমেরুকেন্দ্রিক হয়ে গেছে, যেখানে নাগরিকদের জন্য তেমন কোনো স্পেস নেই।
- কুমিল্লায় নোহা মাইক্রোবাস থেকে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
- বুড়িচংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা, বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশনা
- অফিস চলাকালে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ কুমেকের রেডিওলজিস্টের বিরুদ্ধে
- কুমিল্লায় জলাবদ্ধতায়, প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলে পরিবর্তন করা হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র
- বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৯৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় এনসিপি'র ‘জুলাই পদযাত্রা’ স্থগিত
- কুমিল্লায় স্ত্রীকে গলা কেটে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ
- সব প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে জুলাই জাদুঘর: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী
- চৌদ্দগ্রামে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক