বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬,

শিরোনাম :
  • চার চাকার স্বপ্নে এগিয়ে চলা ভিক্টোরিয়া কলেজের মাইনুল হাসান থানা থেকে ১০০ ফুট দূরে সংঘবদ্ধ চুরি, ১২ লাখ টাকার মালামাল খোয়া কুমিল্লার প্রথম নারী ডিসি রোজী আক্তার সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি: ডা. শফিকুর রহমান সংসদকে পাশ কাটিয়ে নয়, সমতার ভিত্তিতে হোক সব চুক্তি: ডা. শফিকুর রহমান সাইতলায় মাদকবিরোধী সমাবেশ বিশ্বকাপে কবে মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল? কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের গুলিতে স্কুলছাত্রসহ আহত ৫ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায় চীনের গার্ড অব অনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু
  • চার চাকার স্বপ্নে এগিয়ে চলা ভিক্টোরিয়া কলেজের মাইনুল হাসান

    চার চাকার স্বপ্নে এগিয়ে চলা ভিক্টোরিয়া কলেজের  মাইনুল হাসান

    একটি জীবন, একটি হুইল চেয়ার। চারটি চাকায় ভর করে চলছে জীবনের চাকা।

    শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি তার স্বপ্ন, থামাতে পারেনি জ্ঞান অর্জনের পথ।শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেখানে অনেকের পথ থামিয়ে দেয়, সেখানে মাইনুল হাসান প্রমাণ করেছেন। ইচ্ছাশক্তি থাকলে জীবনের চাকা থেমে থাকে না।

    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মাইনুল হাসান। ২০২১ সাল থেকে হুইল চেয়ারে বসেই চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষা ও জীবনের সংগ্রাম।

    শৈশব ছিল আর দশজন শিশুর মতোই। স্কুল, খেলাধুলা আর স্বপ্নে ভরা দিন। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে হঠাৎ দেখা দেয় পায়ের সমস্যা। সপ্তম শ্রেণিতে এসে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে দুই পা অচল হয়ে যায়। চিকিৎসার পর জানা যায়, তিনি মায়োপ্যাথি রোগে আক্রান্ত।

    মাইনুল বলেন, “শুরুতে কেউ বুঝতে পারেনি আমার সমস্যাটা। এমনকি অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পরে জানতে পারি, আমার পেশির শক্তি কমে যাওয়ার কারণে আমি হাঁটতে পারি না।”

    তবে থেমে যায়নি তার পড়াশোনা। পরিবারের ভালোবাসা, বন্ধুদের সহযোগিতা আর নিজের দৃঢ় মনোবল তাকে এগিয়ে নিয়েছে। শাহরাস্তির নওরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, মেহের ডিগ্রি কলেজ হয়ে কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

    মাইনুলের জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের অবদান অনেক। তিনি বলেন, আমি কখনো মনে করিনি যে আমি একা। মা-বাবা, ভাই এবং বন্ধুরা সবসময় পাশে ছিল।

    পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে কর্মদক্ষ করে তুলতে আউটসোর্সিং কাজও শিখেছেন তিনি। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে নতুন সম্ভাবনার অপেক্ষায় আছেন।

    জীবনের পথে কিছু বাধা এলেও দমে যাননি মাইনুল। তার বিশ্বাস, মানুষকে নিজের বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে যুক্ত হয়ে নিজের পাশাপাশি দেশের জন্য কাজ করতে চান তিনি।

    কয়েক বছর আগে বাবাকে হারানো মাইনুল বর্তমানে মা ও বড় ভাইকে নিয়ে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলায় বসবাস করছেন।

    মাইনুলের প্রত্যাশা, অন্তত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধীদের জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থাটা যেন ভালোভাবে করা হয়। সরকার কিংবা কলেজ যদি সুযোগ করে দেয়া হয় তাহলে রাষ্ট্রকে কিছু উপহার দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন।

    মাইনুল হাসানের গল্প শুধু একটি হুইল চেয়ারের গল্প নয়, এটি সাহস, সংগ্রাম আর স্বপ্নকে জয় করার গল্প।

    রাকিব হোসেন

    ভিক্টোরিয়া সংবাদদাতা

    ০১৬২৫০৩৪১৫৭


    add