রবিবার, ২৪ মে ২০২৬,

শিরোনাম :
  • হিফজুল কোরআনে প্রথম কুমিল্লার মেয়ে ফাতেমা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গরু চোর-মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল রেলস্টেশনে চোরাই পণ্য পাচারের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ২ কুমিল্লায় গৃহবধূকে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে  দাউদকান্দির চশই ধারিবন এম.বি দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সফিকুল ইসলাম মজুমদারের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা সোনা মিয়া গ্রেফতার ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতার জমি দখলের অভিযোগ ক্যাম্পাসে ফিরেছে হেলমেট-রাম দা, নতুন অশনিসংকেত বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে বাংলা বিভাগের বাংলা বর্ষবরণ ও পিঠা উৎসব
  • কুমিল্লায় চিকিৎসার অভাবে ২২ বছর ধরে শিকলবন্দী আবুল খায়ের

    কুমিল্লায় চিকিৎসার অভাবে ২২ বছর ধরে শিকলবন্দী আবুল খায়ের

    কুমিল্লায় চিকিৎসার অভাবে ২২ বছর ধরে শিকলবন্দী আবুল খায়ের

    চিকিৎসার অভাব এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন আবুল খায়ের নামের এক যুবক। সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় একটি ছোট্ট টিনের ঘরেই তার বন্দিজীবন কাটছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে আবুল খায়েরের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের তিন বছর পর থেকেই তার আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায় এবং ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আশেপাশের মানুষকে মারধর বা বিরক্ত করার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাধ্য হয়ে তার বাবা নুর মিয়া তাকে শিকলবন্দি করেন। প্রায় ১৫ বছর আগে তার বাবা-মা মারা যান। সন্তান না থাকায় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। আপন কোনো ভাই না থাকায় বর্তমানে তার একমাত্র ভরসা চাচাতো ভাই এবং পেশায় সিএনজি চালক আব্দুর রহমান।
    আব্দুর রহমান জানান, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর খায়েরের বাবার রেখে যাওয়া মাত্র আধা শতাংশ জমির ওপর একটি ছোট টিনের ঘর নির্মাণ করে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। প্রায় পাঁচ বছর আগে গ্রামবাসীর আর্থিক সহায়তায় আবুল খায়েরকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতার কথা বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি নেয়নি। এরপর চিকিৎসার আর কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
    দীর্ঘদিন ধরে কোমরে শিকল বাঁধা থাকার কারণে আবুল খায়ের বর্তমানে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না। তবে চাচাতো ভাই আব্দুর রহমান বিশ্বাস করেন, যথাযথ চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পেলে তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক জায়গা থেকে আবুল খায়েরের দ্রুত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


    add