সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫,

শিরোনাম :
  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতলে মিয়া গোলাম পরওয়ার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করল অন্তর্বর্তী সরকার কুমিল্লায় বিএনপি-এলডিপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৫০ চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের ওয়ার্ড নির্বাচনী সমাবেশ নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাব পরিবারের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা ‎ কুমিল্লা ইপিজেডে বেতন–ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদের এমপি প্রার্থীর প্রচারণা শুরু কুমিল্লা সিটি স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত রাজধানীর কারওয়ান বাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার-- কাজী দ্বীন মোহাম্মদ
  • রাজনীতি, বিচার ও আদর্শের মুখোশ

    রাজনীতি, বিচার ও আদর্শের মুখোশ
    ছবি/কুমিল্লা মেইল

    মতামত।। 

    একটি সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো আইন ও তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ। অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীর বিচারপ্রক্রিয়া ন্যায়ের আলোকে পরিচালিত হওয়ার কথা, যেখানে ব্যক্তির পরিচয় নয়—তার কার্যকলাপই বিবেচ্য হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের বাস্তবতায় চিত্রটি ভিন্ন। এ দেশে অপরাধ সংঘটনের পর বিচারপ্রক্রিয়া যতটা না আইনি, তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক। যেন অপরাধের বিচারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অপরাধীর রাজনৈতিক অবস্থান, এবং বিচারপ্রক্রিয়াও পরিণত হয় এক আদর্শকে অপর আদর্শের উপর বিজয়ী করার কৌশলে।রাজনীতি, আদতে যা হওয়ার কথা ছিল জনসেবার উচ্চতম মাধ্যম, তা বহু ক্ষেত্রেই রূপ নিচ্ছে ক্ষমতার খেলায়।

    সেই খেলায় আইন ও ন্যায়বিচার মাঝে মাঝেই পরিণত হয় রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের অস্ত্রে। অপরাধীর বিচার চাওয়াটা এক সময় আইনি দাবির চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের মাধ্যম। বিচার তখন আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া নয়, বরং হয়ে ওঠে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিপক্ষ দমন বা আদর্শিক বিজয়ের এক উপকরণ।এই বাস্তবতায় সমাজে যে সংকট সৃষ্টি হয় তা বহুমাত্রিক। একদিকে বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট হয়, অন্যদিকে ন্যায়বিচারের বঞ্চনায় মানুষের মনে জমে ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং অনিশ্চয়তা।

    অপরাধীরা পায় মৌন সম্মতি, আর ভুক্তভোগীরা হারিয়ে ফেলেন আশ্রয়। আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে মানুষ বুঝতে পারে, তাদের ন্যায়বিচারের পথ কেবল আইন দিয়ে নয়, রাজনৈতিক জটিলতা দিয়েও আচ্ছন্ন।এর ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের মূল্যবোধগত অবক্ষয় ঘটে। যে রাজনীতি এক সময় জনগণের অধিকার রক্ষার হাতিয়ার ছিল, তা পরিণত হয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে। আর আদর্শ—যা রাজনীতির প্রাণ—তা হারিয়ে ফেলে নৈতিক মেরুদণ্ড, পরিণত হয় বিভাজনের ছলনায়।ন্যায়বিচার তখনই সার্থক হয়, যখন তা রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে কেবল অপরাধ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

    রাজনীতি যদি ন্যায়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা কেবল আইনের অবমাননা নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামোর ভাঙন। তাই প্রয়োজন, আইনকে তার নিজস্ব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা—রাজনীতির ঊর্ধ্বে, আদর্শের ঊর্ধ্বে। আর রাজনীতি হোক নৈতিকতাভিত্তিক নেতৃত্বের প্রয়াস, যেখানে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়—সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই হবে মূল উদ্দেশ্য। 

    -ছন্দফুল

    লেখক ও সাংবাদিক 


    add