সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, , ১০ জ্বিলহজ্ব ১৪৪৫

কুমিল্লায় মধ্যরাতে বিএনপির দু’পক্ষের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ৩

কুমিল্লায়  মধ্যরাতে বিএনপির দু’পক্ষের  গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ৩
ছবি: সংগৃহীত

সজিব মাহমুদ।। কুমিল্লায় মহানগর বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল নেতাসহ দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রবিবার (২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর টাওয়ার হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল আহমেদ তুহিন, যুবদলকর্মী নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কান্দির পাড় এলাকার অন্তর দেব নাথ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রমজানে মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলুর নেতাকর্মীদের সাথে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের অনুসারীদের সঙ্গে হাতাহাতি ঘটে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপুর সমর্থক এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবুর সমর্থক।

 ১৬ মার্চ যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। রবিবার যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দফতর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলালের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াজের সাময়িক অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করে সপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে এমন খবরে রিয়াজের অনুসারীরা রোববার বিকালে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের সামনে আনন্দ মিছিলও করেন। দলীয় পদ ফিরে পাওয়ার খুশিতে রাতে রিয়াজ তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মুখোশ পরা ১০-১৫ জন যুবক এসে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা গুলি বর্ষণও করেন। এতে রিয়াজের সঙ্গে থাকা তিন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান অপর নেতাকর্মীরা।

 

মহানগর যুবদলের এক কর্মীর দাবি, ‘কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলুর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। স্বপদে বহাল রাখায় রিয়াজকে মারার জন্য তারা মুখোশ পরে হামলা চালায়।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবদলের এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের ওপর হামলা করেছে। এই বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।