বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,

শিরোনাম :
  • ভুক্তভোগীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ ভয়হীন বাংলাদেশের খোঁজে ভয়হীন বাংলাদেশের খোঁজে গুপ্ত দলের লোকেরা জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে : তারেক রহমান সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও নারী নিরাপত্তাসহ ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার ক্ষমতায় গেলে কোনো মামলা বাণিজ্য হবে না --কাজী দ্বীন মোহাম্মদ কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার গণতন্ত্রের পথে দেশ, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্য প্রয়োজন-লাকসামে হাজী ইয়াছিন
  • জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে, তারা রূপ পরিবর্তন করে, ধানের শীষের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে দ্বিতীয় পদ্মা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

    গুপ্ত দলের লোকেরা জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে : তারেক রহমান

    গুপ্ত দলের লোকেরা জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে : তারেক রহমান
    ছবি সংগৃহীত

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে নতুন জালিমের আবির্ভাব হয়েছে। তারা দেশের নারী সমাজের ইজ্জত দিতে জানেনা। তাদের নেতা মা-বোনদের সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে এখন বলছেন এটার তার বক্তব্য না, হ্যাক হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ যাচাই করে দেখেছেন, কোনো হ্যাক হয়নি।

     

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের নবীজী (সা.)’র স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) কর্মজীবী মহিলা ছিলেন। বদরের যুদ্ধে মা আয়শা (রা.) রনাঙ্গনে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। সেই নারীদের ঘরবন্দি করে রাখার কথা বলছেন একদল। কিন্তু মা- বোনদের ঘরবন্দি করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ব।

     

    তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লায় তাদের আরেক নেতা দলীয় কর্মীদের বলেছেন, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পরে জনগণ আপনাদের পা ধরবে। গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

     

     

    উপস্থিত জনতার সামনে তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, এরা কীভাবে দেশ চালাবে? এদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার দলের সবাইকে বলছি, আগামী ১৩ তারিখ থেকে আপনারা জনগণের পা ধরবেন। কারণ আমরা মনে করি জনগণই সব ক্ষমতার উৎস্য। তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আগে স্বৈরাচার যেভাবে দেশের মানুষকে অপমান করত, সে ধারা বন্ধ হয়নি। আমরা দুঃখের সাথে খেয়াল করলাম, একটি দল, যাদের জনগণ ভিন্ন নামে চেনে। সেই গুপ্ত সংগঠন নতুন জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন, যে দলের নেতা দেশের মা-বোনদের অপমান করে, তাদের কষ্ট দেয়, তারা দেশ চালাবে কীভাবে।

     

     

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে বরিশাল বিভাগে একমাত্র এ নির্বাচনী সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দক্ষিণাঞ্চলের ২১ আসনের নিজ দলসহ জোটের সব প্রার্থীদেরও পরিচয় করিয়ে দেন।

     

     

    দীর্ঘ দুই দশক পরে বরিশাল সফরকালে এ জনসভায় তারেক রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা দেশ গড়তে চাই। আগামী ১২ তারিখ দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটার ভোট প্রদানের সুযোগ পাবেন। বিগত ১৬ বছর জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, নিশিরাতের ভোট, আমি ভোট ও ডামি ভোটের কারিগররা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন দেশ চলবে জনগণের ভোটে, জনগণের মতামতে।

     

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সময় এসেছে দেশ গড়ার। আমাদের সেই দেশ গড়তে হবে, যে দেশে নারী-পুরুষ মিলে একসাথে কাজ করবে। তিনি বলেন, আমরা যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে বিশ্ব দরবারে গর্বের আসনে আছি, তার কারিগরও আমাদের মা-বোনেরা। তাদের ইজ্জত দেয়া সহ যথাযথ মূল্যায়ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।

     

     

    তারেক রহমান বলেন, আমরা ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সমুদয় কৃষিঋণ মওকুফ করার কথা জানিয়ে তারেক জিয়া বলেন, আমরা কৃষিকার্ড’র মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমানের নিশ্চয়তা দেব। তারা সঠিক দামে সার পাবে, বীজ পাবে। তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আমরা বিভিন্ন এলাকায় হীমাগার করব। যাতে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য রেখে ভাল দাম পাবে।

     

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সব সময়ই জনগণের উন্নয়নে কাজ করি। নির্বাচিত হলে ভোলাকে বরিশালের সাথে সংযুক্ত করতে আমাদের সেতু করতে হবে। ভোলার গ্যাস দিয়ে সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপনসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে।

     

     

    তিনি বলেন, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা তাদের কর্ম উপযোগী করে বেকারত্ব দুর করব। নারী সমাজকে কর্ম উপযোগী করতে সবকিছু করার কথাও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন করার কথাও বলেন তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, নদী ভাঙনে এ অঞ্চলের বহু ফসলি জমিসহ বিশাল জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেকের পিতা-মাতার কবরও নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, তা রোধ করার কথাও জানান তিনি।

     

    টানা ৩০ মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বরিশালে প্রথম পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে এসে অন্ধকারাচ্ছন্ন পল্লী এলকায় বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন। বেগম জিয়া বরিশাল বিভাগ করেছেন। আমরা এ অঞ্চলের সব অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব বলেও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমরা ‘হেলথ কেয়ারার’ নিযুক্ত করব। যাতে ঘরে বসেই মানুষ চিকিৎসা পায়।

     

    বিএনপি চেয়ারম্যান তার ভাষণের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন ১২ তারিখে ভোট শেষ করি, ১৩ তারিখ থেকে দেশ গঠনে নামতে হবে। তিনি দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা দেশে হাজার হাজার খাল খনন করার কথা জানিয়ে বলেন, বিগত দেড় যুগের সরকারের মিথ্যা উন্নয়ন দেখেছি। তারেক রহমান দেশের পুনর্বাসন কাজে কে কে আছেন, জানতে চাইলে বেল পার্কসহ আশেপাশের রাস্তাঘাটের হাজার হাজার মানুষ হাত তুলে তার প্রতি সমর্থন জানান।

     

    বরিশাল মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক মুনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে এ জনসভায় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিরকিস জাহান শিরিন, বরিশাল-৫ আসনের মুজিবুর রহমান সারোয়ার, বরিশাল-১ আসনের জহিরুদ্দিন স্বপন, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল ইসলাম নুর, ঝালকাঠী-১ আসনের প্রার্থী ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো, বরিশাল-৪ আসনের রাজিব আহসান, বরিশাল-৬ আসনের আবুল হোসেন খান, বরিশাল-৩ আসনের অ্যাডভেকেট জয়নুল আবেদিন, পটুয়াখালী-১ আসনের আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ভোলা-১ আসনের আন্দালিভ রহমান পার্থ, ভোলা-৩ আসনের মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম, বরগুনা-২ আসনের নুরুল ইসলাম মনি ও পিরোজপুর-২ আসনের আহমদ সোহেল মঞ্জুর’ও বক্তব্য রাখেন।

     

    এদিকে ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তচর হয়ে যদি জনগণের অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হন এটা কি লজ্জাজনক নয়? ঐ রাজনৈতিক দলটি মুখে বলে এক কথা -অন্তরে লালন করেন ভিন্ন কথা। এটা কাদের কাজ মোনাফেকের কাজ। এই সুন্দর মুখোশে বাংলার প্রত্যেকটি বাড়ীর দুয়ারে ঢুকে পড়ছে। আপনার সকলে সজাগ থাকুন।

     

    তিনি বলেন, এরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে সবার বাড়ীর সদস্যদের তালিকা করছেন। তারা গোপনে এবং প্রকাশ্যে ভোটারদের এনআইডি কার্ড চেয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি আপনাদের অনুরোধ করবো এদের মিষ্টি কথায় ভুলে গিয়ে আপনার পবিত্র আমানতের খিয়ানত করবেন না। গতকাল বুধবার ফরিদপুরের ঐতিহাসিক রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

     

    তিনি বলেন, ফরিদপুরের মা-বোনরা মাঠে ঘাটে এবং দিন-মজুরের কাজ করে। তাদেরকে আত্মনির্ভরশীলতা পথ খুঁজে দিতে হবে। আপনারা আমাদের সাথে থাকুন। আমরাও থাকবো আপনাদের পাশে।

    ফরিদপুর একটি নদীভাঙন প্রবণ এলাকা, এখানকার হাজার হাজার চর এলাকার মানুষ সারা বছরই কষ্ট করেন। এ পদ্মা পাড়ে মা-বোন, নারী পুরুষ হাজার বছর ধরে, সকলে মিলে পদ্মাপাড়ের মাঠে কাজ করেন। কৃষকেদের সাথে কৃষাণি বোনরাও মাঠে কাজ করেন। এ জেলায় কোনো কল কোনো কলকারখানা নেই। এখানে বেশি বেশি কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে। এতে করে পুরুষের পাশাপাশি মা-বোন, তথা নারীরা কাজ করতে পারেন। দেশের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সারা পৃথিবীতে আমরা গৌরববোধ করি। গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করতে একটি চক্র সব সময়ই সজাগ তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তবে হাজার হাজার বেকার নারী-পুরুষ কর্মের সংস্থান খুঁজে পাবেন।

     

    তারেক রহমান বলেন, অত্যন্ত কষ্টের সাথে বলছি। দেশে যারা ধর্মকে লালন করেন তারাই যদি ধর্মকে হিংস্রধর্মে রূপান্তরিত করেন তা হলে এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে। আপনার ভাল পথে চলুন। যাদের কাছ থেকে দেশ জাতি সমাজ শিখবেন, জানবেন, বুঝবেন, তারাই যদি আদবকে ভুলে জান তার অর্থ কি দাঁড়ায়? একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা এদেশের নারী সমাজকে নিয়ে কষ্টদায়ক কথা বলছেন এটা আমরা আশা করি না। এই নতুন গুপ্ত জালেমদের নেতা, দুই দিন আগে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কজনিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটা অনেক লজ্জাজনক। ‘যে ব্যক্তি বা দলের নেতা- দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছে আর যাই হোক বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। তাদের কাছ থেকে কি আপনারা আশা করতে পারে না’?

     

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ফরিদপুরে এসে দেখি এখানে সমস্যার কোনো শেষ নেই। একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া থেকে ২য় পদ্মা সেতু লাগবে, এমন দাবির কথা নেতাদের মুখ থেকে শুনলাম। আপনার আমাদের সাথে থাকবেন। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষের আমার বৃহত্তর ফরিদপুরের সকল প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন, আমার নেতারও আপনাদের সব কথা শুনবেন। মা-বোনদের ঘরে আটকিয়ে রেখে কোনোভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। নারীদের সমান অধিকার দিতে হবে। কারণ নারীরাই আমার মা-বোন।

     

    তিনি এ কথাও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর দেখতেপারছি , দেশে নতুন একটি জালিম গ্রুপ আর্বিভূত হয়েছে, এদেরকে বাংলাদেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে। তাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে। এরকম শোনা যায়।

     

    আমরা জানতে পারছি, তাদের পরিচিত সেসব প্রেস আছে সেখানে তারা ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, যেটি তারা পকেটে করে নিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, প্রথমই তো আপনারা অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করছেন, অনৈতিক কাজ দিয়েই তো মানুষের ভোটকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। যাদের ভোটের শুরুটাই অনৈতিক, তারা কি সৎ মানুষের শাসন দিতে পারে? পারে না, যোগ করেন তিনি এই গুপ্তের দল, এই জালেমের দল বলছে, তারা নািকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। আপনারা তো নির্বাচনের আগে জাল ব্যালট ছাপাচ্ছেন, নির্বাচনের আগেই তো আপনাদের লোকজন মা-বোনদের এনআইডি নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে। এটা কেমন কথা?

    তিনি আরো বলেন, দেশে উন্নয়নের ফাঁকা বুলি দিয়ে কোনো লাভ নেই। জনগণ এখন সব বুঝে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের এদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক। দেশের সমস্যা যেমন আছে, সমাধানের দুয়ারও খোলা। চাই আপনাদের সমর্থন। বৃহত্তর ফরিদপুর একটি নদী ভাঙন প্রবণ এলাকা, নদী ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের জন্য আমার দল ক্ষমতায় গেলে ভাল কিছু করে সকলকে কর্মমুখী করবো ইন শা-আল্লাহ। এ এলাকাটি বন্যার সময় ভাসে। শুকনোর দিনে পুরো পদ্মা অচল থাকে। দল ক্ষমতায় গেলে আমাদের সকলকে নিয়ে সমাধানের পথ আমরা খুঁজবো। যদি আপনার আমাদের ভোট দিয়ে সংসদে বসার সুযোগ দেন।

     

    ফরিদপুরের ব্যাপক ভুট্টা চাষ হয়। এটা রফতানিমুখী করে, কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। তাই আমাদেরকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে আমরা নেতারাই আপনাদের খুঁজবে। ফরিদপুরে আমরা মিল-কলকারখানা সৃষ্টি করে সকলের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। সে জন্য চাই আপাদের ভালবাসা ও ভোট। আগামীতে ধানের শীষের প্রর্থীরা বিজয়ী হলে আমরাই আপনাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে বদ্ধপরিকর।

     

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

     

    ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন সর্বশেষ বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।

     

    তারেক রহমান ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে।

    কৃষিখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাবে।

     

    নারী ও শিশুদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী-এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

     

    পানির সংকট নিরসনে ফরিদপুর অঞ্চলে পদ্মা ব্রিজ (সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো) নির্মাণের আশ্বাস দেন ‘তারেক’। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

     

    ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে ‘তারেক রহমান’ বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।

     

    জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের জনসমাগম প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

     

    জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বড় রাজনৈতিক সমাবেশ নতুন গতি এনে দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, এই নির্বাচনী সমাবেশে বৃহত্তর ফরিদপুরের বিএনপি মনোনীত সকল প্রার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানও সকলককে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।


    add