জামায়াতেও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ
- ডেস্ক রিপোর্টার
- প্রকাশ: ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:৪১ পি এম
তরুণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে পুরোনো রুকন-কর্মীরা—সবাইকে নিয়েই ঐতিহ্যগতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত দলটির সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতির পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে মনোনয়নকে ঘিরে সেই স্থির অবস্থানের বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। চারটি আসনে প্রকাশ্য বিরোধ এবং আরও চারটি আসনে নীরব টানাপোড়েন—দলটির ইতিহাসে এটি এক অস্বস্তিকর ও নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিরোধ প্রকাশ্য হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৬, পাবনা-৫, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) এবং নরসিংদী-৫ আসনে মনোনয়ন নিয়ে প্রকাশ্য বিক্ষোভ, লাঞ্ছনা ও হাতাহাতির ঘটনা সামনে এসেছে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলনের বিরুদ্ধে একাংশের বিক্ষোভের সময় দলের কয়েকজন সিনিয়র রুকনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার জেরে সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব স্থগিত করে কেন্দ্র। যদিও মিলন দাবি করেন, “দুই-একজন বাদে পুরো তৃণমূল এখন প্রচারণায় ঐক্যবদ্ধ।
কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে ২৭ অক্টোবর গণমিছিলের দিন। সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেনকে ‘সরকারঘেঁষা’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হন। মোশাররফ হোসেন অবশ্য অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “সরকারি আমলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে প্রোটোকলগত কিছু কর্মকাণ্ডকে এখন বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।” দলের দীর্ঘ ইতিহাসে গণমিছিলে এমন অস্থিরতার নজির নেই বলেও মনে করেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
পাবনা-৫ আসনে মাওলানা ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার পরই তৃণমূলের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ—‘৫ আগস্ট-পরবর্তী কর্মকাণ্ডে’ ইকবাল গ্রহণযোগ্য নন। তারা সাবেক এমপি আব্দুস সোবহানের ঘনিষ্ঠ আব্দুর রহিমকে প্রার্থী করার দাবি জানায়।
নরসিংদী-৫ আসনে স্থানীয় পর্যায়ের আপত্তির কারণে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নীরব অসন্তোষ: আরও চারটি আসনে টানাপোড়েন
প্রকাশ্য বিক্ষোভ না হলেও সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫ এবং গাজীপুর-৬ আসনে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে দলের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় মুখ শাহজাহান চৌধুরীকে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও তাঁকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি—দলের ভেতরে শক্ত একটি অংশ তাঁর বিরোধিতা করছে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনে শূরা সদস্য ফরহাদ হুসাইনকে বাদ দিয়ে আলোচিত বক্তা আমির হামজাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ—আমির হামজার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান এবং কিছু বক্তব্য দলীয় আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সিলেট-৫ আসনে সাবেক এমপি ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর পরিবর্তে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কম পরিচিত আনোয়ার হোসেন খানের মনোনয়ন দলটির তরুণদের বড় অংশ মেনে নিতে পারছে না। তাঁদের মতে, “কেন্দ্র স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।
গাজীপুর-৬ আসনে তুরস্ক প্রবাসী ড. হাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিক্ষুব্ধ। অভিযোগ—প্রার্থী ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি এলাকায় সক্রিয় ছিলেন না; ফলে স্থানীয় নেতারা মনে করছেন দলটি ‘উপরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থী’ দিয়ে নির্বাচনে ঝুঁকি নিচ্ছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের পরিস্থিতি স্বীকার করে জানান, কিছু সমর্থকের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ হয়েছে। রুকন পর্যায়ে কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেনি। কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত চলছে, প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, মনোনয়ন যু্ক্তিতে এবার তৃণমূলের মতামতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি—ফলে প্রবীণ নেতৃত্বের সঙ্গে তরুণদের দূরত্ব বাড়ছে। কেউ কেউ এটিকে ‘প্রার্থী বাছাইয়ে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ফল’ বলেও ব্যাখ্যা করছেন।
- খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতলে মিয়া গোলাম পরওয়ার
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করল অন্তর্বর্তী সরকার
- কুমিল্লায় বিএনপি-এলডিপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৫০
- চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের ওয়ার্ড নির্বাচনী সমাবেশ
- নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাব পরিবারের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা
- কুমিল্লা ইপিজেডে বেতন–ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
- চৌদ্দগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদের এমপি প্রার্থীর প্রচারণা শুরু
- চৌদ্দগ্রামে সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা আকতারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
- কুমিল্লা সিটি স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- রাজধানীর কারওয়ান বাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট