রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, , ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪৫

চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতা জামাল হত্যা মামলায় ৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতা জামাল হত্যা মামলায় ৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন
ছবি- কুমিল্লা মেইল

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগ নেতা জামাল হত্যা মামলায় ৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৯ আসামির যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। একই সাথে যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। রবিবার (১২ মে) দুপুর ১টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ২৩ আসামির মধ্যে খালাস পেয়েছন ৫ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী (পিপি) জহিরুল হক সেলিম। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৮ জনের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে একজন আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পাঁচজনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, চৌদ্দগ্রাম আলকরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের সালাউদ্দিন, আব্দুর রহমান, মফিজুর রহমান খন্দকার, জিয়াউদ্দিন শিমুল, জাহিদ বিন শুভ, রেজাউল করিম বাবলু, মো. রিয়াজ উদ্দিন মিয়াজী ও আমির হোসেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের নুরুল আলম, কফিল উদ্দিন, নুরুন্নবী সুজন, ইকবাল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খন্দকার, মোশারেফ হোসেন, মো. আলাউদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী হোসেন। অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন, আলকরার কুলাসার গ্রামের নজরুল ইসলাম শিমুল আজিম উদ্দিন আনোয়ার হোসেন সোহেল আতিকুর রহমান নান্টু, ও ইউসুফ হারুন মামুন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম আলকরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। তৎকালীন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিনের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সন্ত্রাসী হামলা হয় জামাল উদ্দিনের ওপর। এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার করার পর ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চু ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি রাত ৮টায় বাড়ি থেকে যুবলীগ নেতা জামাল ঢাকায় যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের পদুয়ায় সড়কের উপরে চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে অন্য আসামিরা গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত জামালের বড় বোন জোহরা আক্তার বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী (পিপি) জহিরুল হক সেলিম বলেন, মামলায় ২০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনের যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আদালত। আর মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ৫ জন। রায় ঘোষণার সময় একজন যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ও দুইজন খালাসপাপ্ত উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।