রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, , ১৮ জ্বিলক্বদ ১৪৪৫

বিষ মেশানো’ চিঠিতে হুমকি পাকিস্তানের ১৭ বিচারপতিকে

বিষ মেশানো’ চিঠিতে হুমকি পাকিস্তানের ১৭ বিচারপতিকে
ছবি/সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতিসহ অন্তত ১৭ বিচারপতিকে বিষাক্ত পাউডার মেশানো চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে এবং ঘটনার রহস্য উন্মোচনে ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তপক্ষ। খবর আলজাজিরার। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারপতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের কাছে ভয়ংকর এক খোলা চিঠি দেন। সেখানে তারা অভিযোগ করেন যে পাকিস্তানের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দেশের বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে। তাদের এ খোলা চিঠি দেয়ার এক সপ্তাহের মাথায় এমন ঘটনা ঘটল।ঘটনার সূত্রপাত হয় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে। গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আটজন বিচারককে এই চিঠি দেওয়া হয়। এসব চিঠিতে পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়। এমনকি সেখানে ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস শব্দটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশের দায়ের করা এফআইআর থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস হলো একটি ব্যাকটেরিয়া যা অ্যানথ্রাক্সের কারণ হতে পারে। মানবদেহের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে এই অ্যানথ্রাক্স। এমনকি তাৎক্ষণিক চিকিত্সা দেওয়া না হলে এর পরিণতি প্রাণঘাতী হতে পারে। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সব বিচারপতিকে চিঠি দেওয়ার পরের দিন বুধবার পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসাসহ সুপ্রিম কোর্টের চারজন বিচারক এবং লাহোর হাইকোর্টের পাঁচজন বিচারককে একই ধরনের বিষাক্ত পাউডার মেশানো চিঠি দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, তেহরিক-ই-নামুস পাকিস্তান নামে একটি স্বল্প পরিচিত গোষ্ঠী বিচারকদের এসব চিঠি পাঠানোর দায় স্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ ও লাহোরের পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, চিঠি এবং সেগুলোতে থাকা পাউডার তদন্তের জন্য ফরেনসিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এই সাদা পাউডার আসলে কী, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেছেন, আমরা তদন্ত করছি। অগ্রগতি হওয়ার সাথে সাথে আমরা তাত্ক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে দিব। ইসলামাবাদভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবী ইমান জয়নব মাজারি-হাজির বলেছেন, বিচারকদের কাছে এসব চিঠি যে উদ্দেশ্যেই পাঠানো হোক না কেন তা অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। লাহোরভিত্তিক আইনজীবী রিদা হোসেনও বিষয়টি সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, বিচারকদের এভাবে কোনো রাখঢাক ছাড়া ভয় দেখানোর বিষয়টি গুরুতর। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রিদা হোসেন বলেন, বিচারকদের হুমকি দেওয়া হলে কোনো বিচার ব্যবস্থা কাজ করতে পারে না। এমনটা হলে ভয়-ভীতি ও পক্ষপাত ছাড়া বিচারকদের রায় দেওয়ার যে ক্ষমতা তা সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।