সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, , ১০ জ্বিলহজ্ব ১৪৪৫

ডান্ডাবেড়ি নিয়েই বাবার জানাজায় , দাফনের আগেই ছাত্রদল নেতা কারাগারে 

ডান্ডাবেড়ি নিয়েই বাবার জানাজায় , দাফনের আগেই ছাত্রদল নেতা কারাগারে 
ছবি- সংগৃহীত

 বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে ডান্ডাবেড়ি নিয়ে জানাজায় শরীক হন ছাত্রদল নেতা মো. নাজমুল মৃধা। তবে দাফনের আগেই তাকে পুনরায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী উপজেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামে। নাজমুল মৃধা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে প্যারোলে মুক্তির পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ডান্ডাবেড়ি নিয়েই বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন নাজমুল। বাবার মরদেহ দাফনের আগেই তাকে  জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল নিন্দার ঝড় ওঠে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজমুলের বাবা মোতালেব হোসেন মৃধা (৬৭) নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বাবার জানাজার নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টায় উপজেলার সুবিদখালী সরকারি র. ই. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে থাকলেও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ওই সময়ের আগেই নাজমুলকে আলাদাভাবে নিজ বাড়িতে ছোট্ট পরিসরে জানাজায় অংশগ্রহণ করানো হয়। এরপর বাবার মরদেহ দাফনের আগেই তাকে আবার জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পুরোটা সময় ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় ছিলেন নাজমুল। ওই ছাত্রদল নেতার বাবা মোতালেব মৃধাও বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন বেশ কয়েক বছর। আরও জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে নিজ বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় নাজমুলকে। পরে বিস্ফোরক মামলার আসামি করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরিবার সূত্র জানায়, বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর শনিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন নাজমুল। পরিবারের সদস্যরা বলেন, নাজমুল এমন কোনো মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি না যে, তাকে বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা হবে। যা খুবই দুঃখজনক। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আহসানুল্লাহ পিন্টু সিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন ফরাজী, সাবেক সভাপতি আশ্রাফ আলী হাওলাদার, জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. জাকারিয়া প্রমুখ।